বাংলাদেশ পুলিশের অনলাইনে জিডি করার নিয়ম - Online GD

বর্তমান সময়ে বিভিন্ন কারনে আমাদের জিডি ( GD- General  Diary)  বা সাধারণ ডায়েরি করার প্রয়োজন পড়ে। পূর্বে সাধারণ ডায়েরি (General Diary)  করার জন্য থানায় যেতে হলেও এখন আপনি চাইলে ঘরে বসেই আপনার হাতে থাকা স্মার্ট ফোনের সাহায্য অল্প সময়ে বাংলাদেশ পুলিশের জন্য অনলাইন জিডি পোর্টাল অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করতে পারবেন, সশরীরে থানায় না গিয়ে। এতে আপনার সময় যেমন বেচে যাবে অন্যদিকে থানায় যাওয়ার ঝামেলাও পোহাতে হবেনা।

 

পুলিশের আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে অনলাইন জিডি প্রোগ্রামের সফটওয়্যারটি API এর মাধ্যমে CDMS ++ সফটওয়্যারের সাথে একীভূত করা হয়েছে। সিডিএমএস সফটওয়্যারটি ২০১১ সালে তৈরি করা হয়েছিল এবং বর্তমানে বাংলাদেশের সকল থানায় দায়ের করা এফআইআর এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যের ডিজিটাল রেকর্ড কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ব্যবহারকারীরা গুগল প্লে স্টোর থেকে অনলাইন জিডি অ্যাপটি ডাউনলোড করতে পারেন অথবা gd.police.gov.bd ভিজিট করতে পারেন।

ব্যবহারকারীরা তাদের বিবরণ এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) কার্ড দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন। একবার একটি GD ফাইল করা হয়ে গেলে, ব্যবহারকারীরা অনন্য QR কোড পাবেন যা ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য GD এর ডিজিটাল বা মুদ্রিত সংস্করণ সংগ্রহ করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

 জিডি বা সাধারণ ডায়েরি কি?  

জিডি (GD) যার পূর্ণরুপ General Diary বা সাধারণ ডায়েরি, যেটো কোন বিষয়ের সাধারণ ডায়েরি কে বুঝায়। এই আইনে পুলিশের সাহায্য পেতে একটি বিবরণ লিখিত ভাবে থানায় জমা দিতে হয়। প্রাপ্ত বয়ষ্ক যেকোন লোক বিনামূল্যে এটি করতে পারবেন। 

 জিডি বা সাধারণ ডায়েরি কেন করবেন?

জিডি বিভিন্ন কারনে করা হয়ে থাকে যেমনঃ জীবনের বা সম্পদের নিরাপত্তার অভাব বোধ করলে মানে কেও হুমকি দিলে,কোন ব্যাক্তি বা পরিবারের বিরুদ্ধে অপরাধ সংগঠনের আশঙ্কা থাকলে,কোন কিছু চুরি হলে,মুল্যবান কোন নথিপত্র, ডকুমেন্টস, সার্টিফিকেট, আইডি কার্ড বা পরিচয় পত্র, চেকবই, লাইসেন্স, ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড হারিয়ে গেলে জিডি করা যায়।

এছাড়াও কেও কারো প্রাণনাশের হুমকি দিলে,কেও হারিয়ে গেলে বা বাড়ি থেকে কেও পালিয়ে গেলেও জিডি করা জুরুরি। কেননা সন্দেহভাজন কোন ঘটনা ঘটার আশঙ্কায় বা কিছু হারানোর জন্য জিডি করার ফলে ওই ঘটনা ঘটার পর দোষী ব্যক্তিদের এবং হারানো জিনিস খুজে পেতে জিডির কোন বিকল্প নেই।


যেহেতু জিডি করতে কোন খরচ নেই তাই সবারি উচিত উপরের কারণগুলো যদি কারো সাথে ঘটে থাকে তবে অবহেলা না করে জিডি করা। বিশেষ করে মোবাইল হারালে বা ছিনতাই হলে অবশ্যই জিডি করা উচিত যাতে ওই মোবাইল দিয়ে কোন অপরাধ সংগঠিত হলে সেই দোষ যেন আপনার উপর এসে না পড়ে। একটি নমুনা চিত্র দেওয়া হলো:

                                                      

 

জিডি করতে কত টাকা লাগে?

 

লোকে বলে টাকা ছাড়া নাকি থানায় জিডি হয়না কিন্তু মনে রাখবেন কোন সরকারি সেবা পাওয়া আপনার অধিকার এবং এর জন্য কোন প্রকার টাকা-পয়সার প্রয়োজন নেই। এর পরেও যদি কোন প্রকার টাকার দাবি করে তবে সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষকে অবহিত করুন।

 কোথায় বা কোন থানায় জিডি করবেন?

যে থানায় জিডি করবেন -

  • যে এলাকায় ঘটনা সংগঠিত হয়েছে বা সংগঠিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। 
  • সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর।

জিডিতে কি কি উল্লেখ করতে হয়?

জিডিতে যেসব বিষবস্তু উল্লেখ করতে হয়-

  • ঘটনা ঘটার স্থানের নাম,তারিখ,সময়, সাক্ষী ( যদি থাকে),
  • সন্ধেহভাজন ব্যাক্তির নাম,ঠিকানা ( যদি থাকে),
  •  জিডিকারীর নাম,ঠিকানা,মোবাইল নাম্বার ,সাক্ষর,মাতা-পিতার নাম এবং এবং অন্যান্য তথ্য,
  • জিডিকারীর সাথে ইমারজেন্সি যোগাযোগ করা জন্য পরিচিত কারো নাম,ঠিকানা,মোবাইল নাম্বার ( মা,বাবা,স্ত্রী)।

 

জিডি কেন গুরুত্বপূর্ণ? 

 

কোন আপরাধ সংগঠনের বিরুদ্ধে আইনি সহায়তাকারী সংস্থার সাহায্য পাওয়ার এটি প্রথম পদক্ষেপ এবং প্রতিরোধমূল্যক ব্যাবস্থা । জিডি করতে দেরি হলে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে সন্ধেহ জোরালো হবে অন্যদিকে জিডি সময়মত করলে অভিযোগের সত্যতা জোরালো হবে।

সুতরাং নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হোন,দুর্নীতি মুক্ত দেশ গড়ুন।

তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক বাংলাদেশ পুলিশের কাছে অনলাইনে জিডি করার নিয়ম বা অনলাইনে GD ফাইল করার পদ্ধতি

ধাপ ১:

1.     Registration> Enter your NID Card Number> Enter your current address > Enter your live photo> Take your mobile (পরে আপনার ব্যবহারকারীর নাম) এবং ইমেল (যদি থাকে) লিখুন এবং একটি পাসওয়ার্ড প্রদান করুন।

2.     আপনার পরিচয় নিশ্চিত করতে, আপনার প্রদত্ত মোবাইল নম্বরে SMS এর মাধ্যমে একটি কোড (OTP) পাঠানো হবে।

3.     কোড (OTP) সঠিকভাবে লিখুন।

4.     লগইন পৃষ্ঠায়, ব্যবহারকারীর ফোনে প্রদত্ত আপনার মোবাইল নম্বর এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন এ ক্লিক করুন।

5.     অনলাইন জিডি পুলিশ বাংলাদেশ, অনলাইন জিডি, বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ অনলাইন জিডি, জিডি কীভাবে দায়ের করবেন, কীভাবে এফআইআর দায়ের করবেন, কীভাবে এফআইআর দায়ের করবেন, কীভাবে জিডি করবেন, কীভাবে অনলাইনে জিডি দায়ের করবেন, কীভাবে এফআইআর করবেন, বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইট।

ধাপ ২:

অভিযোগের ধরণ নির্বাচন করুন এবং আপনি যে জেলা এবং থানায় জিডি দায়ের করতে চান তা নির্বাচন করুন। ঘটনার সময় এবং স্থান লিখুন এবং "পরবর্তী" ধাপ বোতামে ক্লিক করুন।

 ধাপ ৩:

আপনার বর্তমান ঠিকানা এবং ঘটনা সম্পর্কে আরও বিশদ লিখুন। অভিযোগ সম্পর্কিত কোনও নথি থাকলে, সেগুলি সংযুক্ত করুন। "জমা দিন" বোতামে ক্লিক করে অথবা সম্পাদনা বোতামে ক্লিক করে জমা দিন। আবেদন সম্পন্ন হয়ে গেলে, পরে লগ ইন করে আপনি আপনার জিডিএর সর্বশেষ অবস্থা জানতে পারবেন।

আপনাদের জন্য নিচে জিডির একটি  নমুনা কপি সংযুক্ত করা হলো।

 

জিডির একটি নমুনা কপি:

 

 

 

তারিখঃ ………………
 

বরাবর
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
………………..থানা, ঢাকা।


বিষয় : সাধারণ ডায়েরি ভুক্তির জন্য আবেদন।


জনাব,
আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী নাম: ………………………………… বয়স : ……………………………………………………… পিতা/স্বামী : ……………………………………………….. ঠিকানা : …………………………………………………….


এই মর্মে জানাচ্ছি যে আজ/গত …………………….. তারিখ ……………. সময় …………….জায়গা থেকে আমার নিম্নবর্ণিত কাগজ/মালামাল হারিয়ে গেছে।


বর্ণনা : (যা যা হারিয়েছে)


বিষয়টি থানায় অবগতির জন্য সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করার অনুরোধ করছি।

বিনীত

 


নাম:
ঠিকানা:
মোবাইল নম্বর: