বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে মূলত কয়টি ভাগে বিভক্ত ?
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে মূলত শিডিউলড ব্যাংক (তফসিলভুক্ত) ও নন-শিডিউলড ব্যাংক (অতফসিলভুক্ত) এ বিভক্ত করা হয়। এছাড়াও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (NBFI) এবং বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
নিচে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান কাঠামো ও চলমান ব্যাংকগুলোর বিবরণ দেওয়া হলো:
১. শিডিউলড ব্যাংক (Scheduled Banks)
২. নন-শিডিউলড ব্যাংক (Non-Scheduled Banks)
৩. নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (NBFIs)
৪. ব্যাংক একত্রীকরণ (Merger)
১. শিডিউলড ব্যাংক (Scheduled Banks)
বাংলাদেশ ব্যাংক অ্যাক্ট, ১৯৯১ (২০১৩ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যাংকগুলো তফসিলভুক্ত। বর্তমানে বাংলাদেশে ৬২টি শিডিউলড ব্যাংক রয়েছে। এগুলোকে নিম্নলিখিত ভাগে বিভক্ত করা হয়:
ক. রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক (SOCBs)
সরকারি মালিকানাধীন ৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক:
1. অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি
2. বেসিক ব্যাংক লিমিটেড
3. জনতা ব্যাংক পিএলসি
4. রূপালী ব্যাংক পিএলসি
5. সোনালী ব্যাংক পিএলসি
6. বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক
খ. বিশেষায়িত ব্যাংক (SDBs)
নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে (কৃষি বা শিল্প উন্নয়ন) প্রতিষ্ঠিত ৩টি ব্যাংক:
1. বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক
2. রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক
3. প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক
গ. বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক (PCBs)
মোট ৪৩টি বেসরকারি ব্যাংক, যা আবার দুই প্রকার:
(i) প্রচলিত পদ্ধতির ব্যাংক (৩৩টি)
সুদভিত্তিক ব্যাংকিং সেবা প্রদানকারী:
· এবি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) ইত্যাদি।
(ii) ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংক (১০টি)
লাভ-ক্ষতি ভাগাভাগির (PLS) মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে:
· ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, এক্সিম ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ইত্যাদি।
ঘ. বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক (FCBs)
বাংলাদেশে শাখা পরিচালনাকারী ৯টি বিদেশি ব্যাংক:
· এইচএসবিসি (যুক্তরাজ্য), স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক (যুক্তরাজ্য), সিটিব্যাংক (যুক্তরাষ্ট্র), স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (ভারত), ওয়ারি ব্যাংক (দক্ষিণ কোরিয়া) ইত্যাদি।
২. নন-শিডিউলড ব্যাংক (Non-Scheduled Banks)
এগুলো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে সীমিত সেবা প্রদান করে। বর্তমানে ৫টি নন-শিডিউলড ব্যাংক সক্রিয়:
1. আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক
2. কর্মসংস্থান ব্যাংক
3. গ্রামীণ ব্যাংক
4. জুবিলী ব্যাংক
5. পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক
৩. নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (NBFIs)
বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রিত ৩৪টি এনবিএফআই সক্রিয়, যেগুলো মূলত লিজিং, বিনিয়োগ ও অর্থায়নের সেবা দেয়। উল্লেখযোগ্য কিছু প্রতিষ্ঠান:
· আইডিএলসি ফাইন্যান্স, ইম্প্যাক্ট ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, ইউনাইটেড ফাইন্যান্স, লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স ইত্যাদি।
৪. ব্যাংক একত্রীকরণ (Merger)
২০২৪ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক দুর্বল ব্যাংকগুলোর শক্তিশালী ব্যাংকের সাথে একত্রীকরণের নীতি জারি করে। চলমান একত্রীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে:
· প্যাডমা ব্যাংক + এক্সিম ব্যাংক
· বেসিক ব্যাংক + সিটি ব্যাংক
· বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক + সোনালী ব্যাংক
· রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক + বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক
সর্বশেষ অবস্থা (২০২৪)
· বেসরকারি খাতে নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স স্থগিত।
· ইসলামী ব্যাংকগুলোর সম্প্রসারণ ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হচ্ছে।
· ডিজিটাল ব্যাংকিং (যেমন: নগদ, বিকাশ, রকেট) ও এজেন্ট ব্যাংকিং বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ, একত্রীকরণ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মন্তব্য (0)
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!