প্রিপেইড বৈদ্যুতিক মিটার হলো একটি আধুনিক বিদ্যুৎ পরিমাপক যন্ত্র যেখানে "ফার্স্ট পে, থেন ইউজ" পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। অর্থাৎ, বিদ্যুৎ ব্যবহারের আগে টাকা রিচার্জ করতে হয়, এবং ব্যালেন্স শেষ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী এ মিটারের ব্যবহার বাড়ছে কারণ এটি বিদ্যুৎ অপচয় রোধ, স্বচ্ছ বিলিং, এবং গ্রাহকদের নিয়ন্ত্রণে সুবিধা দেয়।

বাংলাদেশে প্রধানত ২ ধরনের প্রিপেইড মিটার ব্যবহার হয়:

১. কীপ্যাড প্রিপেইড মিটার 

২. স্মার্ট কার্ড প্রিপেইড মিটার

 

বৈশিষ্ট্য:

  • ১০ ডিজিটের কীপ্যাড (০-৯, ডিলিট ←, এন্টার ↵)।
  • টোকেন-ভিত্তিক রিচার্জ: রিচার্জ কার্ড/মোবাইল ব্যাংকিং থেকে ২০ ডিজিটের টোকেন পেয়ে মিটারে প্রবেশ করাতে হয়।
  • ইউনিট ও কারেন্সি ট্রান্সফার সাপোর্ট করে।

ব্যবহার পদ্ধতি:

  1. বিকাশ/নগদ/কার্ড দিয়ে রিচার্জ করুন।
  2. ২০ ডিজিটের টোকেন পাবেন (এসএমএসে)।
  3. মিটারে *000*টোকেন# লিখে ↵ চাপুন।
  4. সফল হলে ব্যালেন্স দেখাবে।

সতর্কতা:

  • ৩ বার ভুল টোকেন দিলে মিটার লক হয়ে যেতে পারে (অফিসে যোগাযোগ করতে হবে)।
 

বৈশিষ্ট্য:

  • ফিজিক্যাল স্মার্ট কার্ড ব্যবহার হয় (RFID টেকনোলজি)।
  • শুধু কারেন্সি ট্রান্সফার সাপোর্ট করে (ইউনিট নয়)।
  • মোবাইল ব্যাংকিংয়ে রিচার্জ করলে অটো-আপডেট হয় (কার্ড ঢোকানোর দরকার নেই)।

ব্যবহার পদ্ধতি:

  1. বিদ্যুৎ অফিস/ভেন্ডিং মেশিন থেকে কার্ড রিচার্জ করুন।
  2. কার্ডটি মিটারের স্লটে ঢোকান – ব্যালেন্স আপডেট হবে।

সতর্কতা:

  • কার্ড হারালে অফিস থেকে ব্লক করাতে হবে (অন্যথায় অন্যরা ব্যবহার করতে পারবে)।

প্রিপেইড মিটারের মূল বৈশিষ্ট্য

১. অগ্রিম পেমেন্ট সিস্টেম

  • বিদ্যুৎ ব্যবহারের আগে টাকা/ইউনিট কিনতে হয়।
  • ব্যালেন্স শূন্য হলে অটো-ডিসকানেক্ট (বিশেষ সময় ছাড়া)।

২. রিয়েল-টাইম মনিটরিং

  • *800# চেপে ব্যবহৃত ইউনিট, *801# চেপে বর্তমান ব্যালেন্স দেখা যায়।
  • মোবাইল অ্যাপ/এসএমএসের মাধ্যমেও তথ্য পাওয়া যায় (বাংলাদেশে ধীরে ধীরে চালু হচ্ছে)।

৩. ফ্রেন্ডলি আওয়ার ও ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স

  • ফ্রেন্ডলি আওয়ার (বিকাল ৪টা–সকাল ১০টা) ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ব্যালেন্স শূন্য হলেও বিদ্যুৎ বন্ধ হয় না।
  • ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স (*810#) ব্যবহার করে জরুরি সময়ে সংযোগ চালু রাখা যায়।